‘‘এক খনি মজুরের ছেলে তার মা’কে জিজ্ঞাসা করছে, ঘরে আগুন জ্বলছে না কেন মা? বড়ো ঠান্ডা যে!
–আমাদের কয়লা নেই বাবা।
–কেন কয়লা নেই মা?
–তোমার বাবা যে বেকার, তাই আমাদের কয়লা কেনার টাকা নেই।
–কিন্তু বাবার চাকরি কেন নেই মা?
–অনেক কয়লা মজুত রয়েছে যে বাবা।’’
লিওনটিয়েফ-এর মার্ক্সীয় অর্থনীতি আলোচনায় এই ঘটনার উল্লেখ ধনতন্ত্রের স্বরূপ বুঝিয়ে দিয়ে যায় অতি সহজেই। একটা ধনতান্ত্রিক দেশ কোনোভাবেই দারিদ্র, বেকারত্ব থেকে মুক্ত হতে পারে না। হকারদের লড়াইয়ের নীতিগত ভিত্তিটা কিন্তু সেই জায়গায় প্রোথিত করা দরকার। হকাররা দেশের মানুষ; আর দেশ, সরকার, রাষ্ট্র, আইন কানুন সবই সেই মানুষের কল্যাণকে কেন্দ্র করে চালিত হওয়া সভ্যতার সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য।
আমাদের রাজ্যে সদ্য নির্বাচনে সরকার বদলে গেল। নির্বাচন সম্পর্কে মার্ক্স বলেছিলেন, কারা জনগণকে শোষণ করবে সেটা ঠিক করার নামই হল নির্বাচন। আর রবীন্দ্রনাথের ‘চীনেম্যানের চিঠি’তে পাই, "ইলেক্শন ব্যাপারটার অর্থ কী? তোমরা মুখে বল, তাহার অর্থ জনসাধারণের দ্বারা প্রতিনিধিনির্বাচন- কিন্তু তোমরা মনে মনে কি নিশ্চয় জান না তাহার অর্থ তাহা নহে? বস্তুত এক-একটি দলীয় স্বার্থেরই প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। জমিদার, মদের কারখানার কর্তা, রেল-কোম্পানির অধ্যক্ষ– ইহারাই কি তোমাদিগকে শাসন করিতেছে না?"
-কথাটা অনেকদিন আগের। কিন্তু আজও আমরা সঠিকভাবে তার মর্মোদ্ধার করতে পারলাম না। তাই উপর উপর জনসাধারণের দ্বারা প্রতিনিধি নির্বাচন হওয়ার পর জনসাধারণের উপরই আক্রমণ নেমে আসে। মার খায় তারাই। তাঁদেরই ঘর ভাঙে, রুজি রোজগার ধ্বংস হয়। বিরোধী থাকার সময় ভোট নেবার জন্য যে হকারদের পক্ষে কথা বলা হচ্ছিল, আজ সরকারে বসে তাঁদের দখলদার বলা হচ্ছে। অর্থাৎ, “তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ,/ আমি আজ চোর বটে!”
বলা হচ্ছে, সরকারের জমি, রেলের জমি। হকাররা সেখানে বসবে কেন? কেন বসে তা কি সরকার জানে না? দেশে কোটি কোটি বেকার। কোনও সরকার কর্মসংস্থানের দিশা দিতে পারছে না। বাধ্য হয়ে নানা ভাতা প্রদানের পথে তাদের হাঁটতে হচ্ছে। যে কজন কাজ পাচ্ছে তার দশবিশগুণ লোক কাজ হারাচ্ছে, ছাঁটাই হচ্ছে। মানুষগুলো যাবে কোথায়? করবে কী? খাবে কী? এগুলো কি সরকারের ভাবার দায়িত্ব নয়? তাহলে সরকারটা কিসের জন্য, কাদের জন্য? দেশের অগণিত সাধারণ দরিদ্র মানুষের প্রতি সরকারের কি কোনও দায়িত্ব কর্তব্য নেই? কয়েকটা লোক দেশের জমি জল জঙ্গল খনি পাহাড় সমস্ত কিছুর দখলদারি পাবে, ধনকুবের হবে, আর যত আইন উদয়াস্ত খেটে খাওয়া মানুষের জন্য? দুঃখের বিষয়, এই অতি সাধারণ মানবিক প্রশ্নটুকু করলে আজ বলা হয়, রাজনীতি করছেন, দেশের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছেন। অনেকে সেই ভয়ে ক্ষমতাবানের তালে তাল মেলায়। সমস্যাটা ভেবে দেখে না। সমাধানের পথ কী, তা নিয়ে আলোচনা করে না। অথচ সেটাই তো সবচেয়ে জরুরি।
গণপরিসরে হকারদের অস্বাভাবিক ভিড় থাকলে অসুবিধা হয় বৈকি। কিছু ক্ষেত্রে হকারদের উৎপাতও সহ্য করতে হয়। সেই সমস্যারও উৎস আছে। দুর্নীতিগ্রস্ত দলগুলো নিজেদের সুযোগ মতো হকারদের বসায় তোলা চুক্তির ভিত্তিতে। সেই তোলার ভাগ পুলিশ প্রসাসন-সহ কর্তৃপক্ষের সব স্তরে যায়। এই তোলা জোগাড়ের চাপে হকারেরা থাকে টেনশনে। কাস্টমার বা অন্যান্যদের উপর জুলুম করতেও সে মাঝেমধ্যে পিছপা হয় না যেহেতু উপরওয়ালার হাত আছে তার মাথায়। অর্থাৎ, দুর্নীতিগ্রস্ত উপরওয়ালারা মোটা উপরি রোজগারের জন্য বেকারদের ব্যবহার করে এবং সাধারণ মানুষকে উত্যক্ত করে মারে। আমরা আসল জায়গায় ঘা দিই না, উপরওয়ালার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাই না, নানা আশঙ্কায়। তার পর সুযোগ পেলে সেই রাগ বা ক্ষোভ নির্যাতিত অসহায় মানুষগুলোর উপরেই উগড়ে দিই, তাঁদেরকেই গাল দিই, গায়ের ঝাল মেটাই, কারণ তারা তো আর আমাদের কিছু করতে পারবে না। এই মনোবৃত্তি থেকে আমাদের বেরোতে হবে। সমস্যার সমাধান করতে হবে, শক্তের ভক্ত নরমের যম হলে সমস্যা মিটবে না।
আজ বিপন্ন হকাররা অনেকেই জীবন জীবিকার জন্য লড়ার চেষ্টা করছে। স্টেশনে স্টেশনে রাত জাগছে রেলযাত্রী হকার সমন্বয় কমিটির সদস্যরা। সবাই মিলে লড়ছে শাসকের বুলডোজার ও পুলিশের লাঠির সামনে। তারা রক্তাক্ত হচ্ছে। এই লড়াই এক মহৎ লড়াই। এই লড়াইয়ের পাশে নয়, সাথে থাকতে হবে সেই সমস্ত মানুষকে যাদের বিবেক হৃদয় মনুষ্যত্ব আছে। আইনি লড়াইও সাময়িক স্বস্তির জন্য চলতে পারে কিন্তু ময়দানের লড়াইকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রসারিত করতে হবে। সেদিকে সতর্ক থাকলে তবেই আইনি লড়াইয়ে কিছু প্রভাব পড়লেও পড়তে পারে। বিপরীতটা কঠিন। তার সাথে এও মনে রাখতে হবে, লড়াই করতে গেলে সত্যিকারের মানুষ চাই, নেতৃত্ব চাই, নীতি নৈতিকতা চাই। রবীন্দ্রনাথ শিখিয়েছেন, “পথের সমস্ত বিঘ্ন অতিক্রম করিবার জন্য বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদিগকে দল বাঁধিতে হইবে, স্বতন্ত্র পাথেয়গুলিকে একত্র করিতে হইবে, একজনের বাধ্যতা স্বীকার করিয়া দৃঢ় নিয়মের অধীনে নিজেদের মতবিভিন্নতাকে যথাসম্ভব সংযত করিতে হইবে-- নতুবা আমাদের সার্থকতা-অন্বেষণের এই মহাযাত্রা দীর্ঘকাল কেবল ছুটাছুটি-দৌড়াদৌড়ি ডাকাডাকি-হাঁকাহাঁকিতেই নষ্ট হইতে থাকিবে।” লড়াইয়ের ময়দানে আসা মানুষগুলোকে তাই বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে। তা না করতে পারলে শুধু শাসক বদলাবে, পরিস্থিতি বদলাবে না, ইতিহাসে তার অজস্র সাক্ষ্য মজুত রয়েছে।
আজ যে নেতারা হকারদের অমানবিক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়াইতে আসছে তারা কি সত্যিই জনস্বার্থের জন্য আসছে? না কি এটার দ্বারা তারা সরকারি ক্ষমতায় যাওয়ার পথ প্রসস্ত করতে চাইছে? হকারদের জন্য কি তারা আদতে চিন্তিত? না কি এটা শুধুই নিজের দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের সুযোগ? ৬০-এর দশকে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস সরকারের আমলে কলকাতার ফুটপাথ ও রাস্তা দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে যে ব্যাপক হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, তা ইতিহাসে ‘অপারেশন হকার’ নামে পরিচিত। ১৯৬৩ সালে কংগ্রেস সরকার হকারদের উচ্ছেদের জন্য বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে সড়ক আইন (হাইওয়ে অ্যাক্ট) সংশোধন করেছিল। যেখানে বলা হয়েছিল, হকারদের উচ্ছেদের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটি যে কোনও মুহূর্তে পুলিশের সাহায্যে হকারদের দোকান ভেঙে দিতে পারবে এবং এই ভাঙবার খরচাও দোকানদের কাছ থেকে আদায় করা হবে। উপরন্তু এই উচ্ছেদের আদেশের বিরুদ্ধে আইনগত সাহায্য গ্রহণের কোন অধিকারও থাকবে না। ১৯৬৫ সালের ৬ই জানুয়ারি বিনা নোটিশে হঠাৎ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত দতরের লোকজন পুলিশের সাহায্যে বি টি রোডে ডানলপ ব্রিজের কাছে হকারদের দোকান ও হোটেলগুলি ভেঙে দেয়। প্রায় দু হাজার মানুষে জীবিকাচ্যুত হয়। কাউকে কোনও বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি।
১৯৯৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বলেছিলেন 'রাতারাতি হকারদের পুনর্বাসন দেওয়া যায় না।' কথাটা সাধারণ মানুষও বোঝেন। কিন্তু পুনর্বাসন যদি রাতারাতি দেওয়া না যায়, তবে রাতারাতি হকারদের উচ্ছেদ করা হয় কোন যুক্তিতে? যানজট ও পরিবেশ দূষণের জন্য কলকাতার হকাররাই দায়ী, এই কথা বলে তারা ‘অপারেশন সানশাইন’ করেছিল। সামনে এনেছিল মেগাসিটি প্রকল্পের কথা। আর সেই মেগাসিটি প্রকল্পে ২৩ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে বিশ্ব ব্যাঙ্কের কাছ থেকে। কিন্তু বিশ্বব্যাঙ্ক কর্তাদের প্রবল আপত্তি কলকাতায় হকারদের উপস্থিতি নিয়ে। তাই বিশ্বব্যাংকের অনুগ্রহ পেতে অসহায় হকারদের উপর ২৪ নভেম্বর ১৯৯৬ তারিখে সুভাষ চক্রবর্তী, কান্তি গাংগুলি, নেপাল ভট্টাচার্যরা পুলিশ, RAF, দলীয় ঠ্যাঙাড়ে ও সমাজবিরোধী বাহিনী নিয়ে রাতের অন্ধকারে বুলডোজার জলকামান, গুলি-গ্যাস সহ ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করেননি। গরিবের সব ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সুভাষ চক্রবর্তী বলেছিলেন, হকার উচ্ছেদের ব্যাপারে কোনও বিরোধিতাকে তিনি কেয়ার করেন না। সেই সময় কান্তি গাংগুলি বলেছিলেন, পুনর্বাসনের দাবি কী? ওরা তো দখলদার, বেআইনিভাবে রাস্তা দখল করেছে। সুভাষ চক্রবর্তী বলেছিলেন, পুনর্বাসনের দাবি হকাররা করতে পারে না, তবে সরকার যদি সেটা ভেবে দেখে সেটা অন্য কথা। অথচ, এর কয়েকদিন আগে দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকটি একচেটিয়া কোম্পানির কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে সুভাষবাবু রেগে গিয়ে বলেছিলেন, ব্যবসায় এক নম্বরি দু নম্বরি চলে, তাই বলে কি গ্রেপ্তার করতে হবে!
সুভাষ চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, হকারদের দোকান ভেঙে দেওয়ার আগে তিনি কংগ্রেস-বিজেপি সহ নানা দলের ১০৩ জন নেতার সাথে কথা বলেছেন এবং তারা সকলেই হকার উচ্ছেদের সমর্থক। কংগ্রেসের নেতারা সে সময় বলেছিলেন যে তারা হকারদের পাশে দাঁড়াবেন না। তারা বলেছিলেন, হকার উচ্ছেদ করার ফলে কলকাতায় সিপিএমের ভোট ১০-১৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। তাই হকার উচ্ছেদের বিরোধিতা করে কংগ্রেস ভোট হারাতে চায় না। প্রসঙ্গত, একটি তথ্যে পাওয়া যাচ্ছে, ‘অপারেশন সানশাইন’-এর পরিণতিতে ১৬০০টি স্টল ধ্বংস হয়েছিল, ১০২ জন হকার গ্রেপ্তার হয়েছিল। ১৮ জন হকার আত্মহত্যা করেছিলেন। জীবিকা হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন প্রায় ১০০ জন হকার।
আজ যখন রাজ্যে বিজেপি এসে হকারদের উপর নির্মম ভাবে অত্যাচার করছে তখন দেখছি সিপিএম-কংগ্রেসের নেতানেত্রীরা ক্যামেরার সামনে হুংকার দিচ্ছেন। সিপিএম প্রচার করছে তাদের সরকার নাকি সব হকারকে পুনর্বাসন দিয়েছিল। কিছু বাজারের তালিকা দেখিয়ে তারা বলেছেন, সেগুলি নাকি অপারেশন সানশাইনের আগে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এটি অপপ্রচার। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসন দেবার জন্য কলকাতা পুরসভা প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল অপারেশন সানশাইনের তাণ্ডবের পরে। সাম্প্রতিক একটি লেখায় দেখানো হয়েছে, কসবা নিউ মার্কেটে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের একাংশকে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল ২০০৪ সালে। গ্যালিফ স্ট্রিট মার্কেটে ১৯৯৯ সালে, দেশপ্রিয় পার্ক, কলেজ স্কোয়ার এবং কালীঘাট বাজারে ১৯৯৮ সালে। উল্টোডাঙ্গা পুর বাজারে ১৯৯৯ সালে। সবই অপারেশন সানশাইনের পরে। ততদিনে বহু হকার পরিবার ভেসে গিয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যা করার খবরও তখনকার সংবাদপত্রের পাতায় পাওয়া যাবে।
এইসব ইতিহাস যখন মানুষ জানতে পায় তখন তার মনে স্বাভাবিকভাবেই একটা হতাশা আসে। তাই সময় মতো সচেতন হলে হতাশার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। লড়াইয়ে সবাই আসুক, দলমত নির্বিশেষে সকলেই অংশগ্রহণ করুক কিন্তু তার নেতৃত্ব ঠিক রাখতে হবে। না হলে লড়াই বারবার ব্যর্থ হবে।
শেষে এটা না বললেই নয় যে, ১৯৫২ সালে মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাথের বইয়ের দোকানগুলো তুলে দেবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ আর কর্পোরেশনের লোকজন দোকান ভাঙতে এলে ছাত্র, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ হাত ধরাধরি করে মানব শৃঙ্খল তৈরি করে প্রতিরোধ করেছিল। ৭৪ বছর পর সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল। গত ৩ জুন ছাত্র সংগঠন ডিএসও'র উদ্যোগে আবারও মানব শৃঙ্খল তৈরি করল সাধারণ মানুষ, শাসকের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বার্তা দিতে। এই সচেতন বলিষ্ঠতাই যুগে যুগে পৃথিবীর বুকে লিখে দিয়ে যায়, অন্যায়ের সামনে ঝুঁকবো না, রুখবো। ¤
পথিকৃৎ
৮৮বি বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী স্ট্রিট
কলকাতা ৭০০০১২
দূরাভাষ- 9433046280, 9433451998
ইমেইল- pathikritpatrika@gmail.com